হে ধর্মাবতার! আমি কিচ্ছু জানিনা

 


রাতের কোলে কোলে এখন আসেপাশে কোনো রেস্টুরেন্ট বা কোনো লজ নেই। দুটোর মধ্যে একটা বেছে নিতে হবে। কিন্তু কোনোটাই নেই এখানে। সামনেই পরিচিত এক ডাক্তারের পুরোনো কাঠের ঘর আছে। ভেজানো দরজার ওপারে যেন আমার জন্যই মেঝেতে চিত হয়ে অপেক্ষা করছিল ডাক্তার। ডাক্তারের বউ , বাচ্চা মেয়ে। আমার দিকে পাশ ফিরে কনুই ভাঁজ করে মাথা উঁচু করে, দেখছে, মুচকি হেসে বলল এসো। যেন জানতো আমি একটু চিত হয়ে শোয়ার জন্যই এসেছি। আমি খিদের কথা ভুলে গেছি, ভুলে যাওয়া পথের ঢালের কথা মনে পড়ছে না। চোখ  যেন গড়িয়ে ব্রহ্মতালু ভেদ করে হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি উপত্যকায়। এ চোখ দেখে না, এ চোখের কাজ নেই আর এ জীবনে। এখন কপালের ভেতরের দিকে ঘুলঘুলিতে ভরদুপুরে টিকটিকি এসে জিরয়। জিভ বের করে হাওয়া মাপে। এসব দেখে । চোখ খুলে দেখি, ডাক্তারের ঘরের সবাই প্রেতাত্মার মতো জেগে আছে । চারজনই পাশাপাশি শুয়ে আছি। আমি জেগে উঠতেই ওরা ঘুমিয়ে গেল। যেন আমার জন্যই এক অজানা অপেক্ষা করছে বহুকাল। আমি পাহাড়ি ঢালে হারিয়ে ফেলেছি আমার ঢাল। আমিও পাইনের জঙ্গলের নিচের দিকে দাঁড়িয়ে আছি উপরের দিকে তাকিয়ে। সেইখানে আমার স্ত্রী কুয়াশা দেখছে। আমি গাছ মেঘ আর ওকে একনাগাড়ে দেখছি বলে , রেগে যাচ্ছে। বলছে এদিকে তাকিও না, মুখ ঘোরাও। 



মুখ ঘুরিয়ে পাশ ফিরে শুলাম। এ সমুদ্রতট বড়ো ফাঁকা। আমার একপাশের জামাকাপড় ভেজা বালিতে ভিজে যাচ্ছে। ছোটো কাকিমা বোনের পিছু পিছু দৌড়াচ্ছে। হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন। বোন পরবে না। বোন ছুটতে ছুটতে কোথায় চলে গেল। কাকিমা হাঁপিয়ে কোথাও একজায়গায় এলিয়ে পড়েছে বালির ওপর। সুরসুর করে হাওয়ায় নুন বালি আমায় চাপা দিয়ে দিচ্ছে।  



শরীরের ওজন মন বাইতে জানে। বউ রাতের গভীর সমুদ্রে জাহাজের ছাদে আমার বুকে পৃথিবীর নিগূঢ় কথা শুনতে চায়। আমি মনে করতে পারিনি গর্ভের অন্ধকার। আমি পাহাড়ের কাছে বলতে পারিনি আমি জীবনকে ভালবাসতে শিখে গেছি। মায়ের কাছে জানার ইচ্ছে ছিল, জানতে পারিনি আমার জন্মের ফুল কোথায় ফেলে দিয়েছিল ! আমি কিছুই জানিনা, আমি তাকে আমায় একটু অবিশ্বাস করতে শেখাই। আমি বোঝায় যে পাইন বনে আমরা ভাড়ার লাল চেয়ারে বসেছিলাম, সেই ঢালে এখন চা বাগান। তুমি বিশ্বাস করো আমি সত্যিই কিছু জানি না। 



© পাঞ্চজন্য 

Comments